ফ্রিল্যান্সিং কী?

মানুষ সফল ফ্রিল্যান্সার কখন হয়?

মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সফলতা লাভ করার যাকিছু বৈশিষ্ট সবকিছুই আপনার রয়েছে। আপনি আপনার কাজে দক্ষ, মনোযোগি, সৃষ্টিশীল। তারপরও হয়তো আপনি সফল হচ্ছেন না। আশানুরুপ কাজ পাচ্ছেন না, পছন্দমত আয় হচ্ছে না।

উল্লেখ করা বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে আরেকটা বৈশিষ্ট আলাদাভাবে প্রয়োজন হয়। সেটা হচ্ছে নিয়মাবর্তিতা। আপনি কতটুকু নিয়ম মেনে চলেন সেটা নিশ্চিত করা। আরো নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করলে, ফ্রিল্যান্সারের জন্য যেভাবে নিয়ম মেনে চলা উচিত সেভাবে মানা।

একজন ফ্রিল্যান্সারের কাজ তদারকি করার কেউ নেই। তিনি নিজেই নিজের কাজ তদারক করবেন। সেকারনে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

একজন ফ্রিল্যান্সারকে নানারকম চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়। কখনো অতিরিক্ত কাজের চাপ, কখনো ক্লায়েন্টের সমালোচনার মানষিক চাপ, কখনো ফ্রিল্যান্সিং কাজে ব্যস্ত থাকার কারনে পারিপার্শিক চাপ ইত্যাদি। এতকিছুর

মধ্যে মনে হওয়া স্বাভাবিক, আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। এর বেশি আমার কিছু করার নেই।

হয়তো সেটাই ঠিক। অন্তত কারো কারো ক্ষেত্রে তো বটেই। আপনি যখন এত চাপের মধ্যে থেকে কাজ করুন তখন অন্যরা সহানুভুতির দৃষ্টিতে দেখে কাজে কিছুটা সহায়তা করবে এটা আশা করতেই পারেন। যদি সেটা না ঘটে তাহলে নিজেকেই সমাধান খুজতে হয়।

একজন সফল ফ্রিল্যান্সার বিষয়টিকে নিয়মের মধ্যে আনিন। তার কাজের পদ্ধতি এমনভাবে সাজান যেখানে সমস্যার সমাধান সহজ হয়।

আপনি আপনার কাজের পদ্ধতিকে যাচাই করে নিতে পারেন তাদের পদ্ধতির সাথে;

১. আপনি কি প্রতিদিন কিছু কাজ করুন?

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি কি প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় কাজ করুন? ভালো লাগুক আর নাই লাগুক, হাতে কাজ থাক বা না থাক। ভালো না লাগলেও কাজ করলে সে কাজ এগিয়ে থাকে। একসময় সেটা ভালোলাগায় পরিনত হয়। হাতে ক্লায়েন্টের কাজ না থাকলে অনেকে নতুন কিছু শিখুন, আগামী কাজের প্রস্তুতি নিন। একজন ডিজাইনার আগেই ডিজাইন টেম্পলেট তৈরী করে রাখেন। এগুলো সবসময়ই সফলতার পক্ষে কাজ করে।

২. যখন কাজ থাকে তখনও কাজে চেষ্টা করুনঃ

ফ্রিল্যান্সিং এক ধরনের ব্যবসা। কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সবসময়ের চেষ্টা ব্যবসাকে আরো উন্নত করা।

একজন সফল ফ্রিল্যান্সার সবসময়ই কাজের উন্নতি করতে চেষ্টা করুন। হাতে কাজ থাকার পরও নতুন কাজের চেষ্টা করুন। বিষয়টি এভাবে দেখতে পারেন, বর্তমানে যে কাজ করছেন তা থেকে হয়তো মাসে আয় ৫০০ ডলার। এমন কাজ কেন খোঁজ করবেন না যা থেকে ৭০০ ডলার আয় করা যায়।

আপনি ২৪ ঘন্টাকে ৪৮ ঘন্টা বানিয়ে বেশি কাজ করতে পারেন না, অনায়াসে কাজের মূল্য বাড়াতে পারেন। সেকারনে সবসময় ভালো কাজের খোঁজ করার গুরুত্বপূর্ণ।

৩. পছন্দ না হলেও সেকাজ করুনঃ

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ বাছাই করার সুযোগ আপনার রয়েছে। ইচ্ছে করলে কোন কাজ করবেন, কোন কাজ করবেন না। সবসময়ই কি শুধুমাত্র পছন্দের কাজ করেন?

ফ্রিল্যান্সার কখনো কখনো অপছন্দের কাজও করুন। পছন্দ করুন না তারপরও কাজ ভালোভাবে করে আপনি ক্লায়েন্টকে খুশি রাখতে পারেন। তারকাছে পছন্দের কাজ পেতে পারেন। আর যখন কাজ থাকে না তখন বিকল্প কাজ হিসেবে ব্যবহারের পথ খোলা থাকে।

৪. সমস্যার কারনে কাজ থেকে সরে যান নাঃ

কাজ করার সময় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরী হতে পারে। সমালোচনা সহ্য করতে হতে পারে। একসময় কাজ ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছেও তৈরী হতে পারে।

সফল ফ্রিল্যান্সার কখনো কাজ ছেড়ে দেন না। সমস্যা দেখা দিলে আরো বেশি মনোযোগি হয়ে সমস্যা মোকাবেলা করুন। বিশ্বে যারা খ্যাতিমান তাদের সবাইকে সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। কবি

জীবনানন্দ দাসের এমন সমালোচনা করা হয়েছিল যে তাকে বিরক্ত হয়ে দিতে হয়েছিল। নিজের কাজ থেকে সরে যাননি।

ধরে নিন সমালোচনা করা কিছু মানুষের অভ্যাস। ভালো-মন্দ সব কাজেই কিছু মানুষ সমালোচনা করবেন বলে পণ করেছেন।

অন্য যে সমস্যাই আসুক, সফল ফ্রিল্যান্সারের দায়িত্ব তার সমাধান খোজা এবং ফ্রিল্যান্সিং ঠিক রাখা।

৫. নিজের ভুল স্বীকার করতে পারেন এবং সংশোধন করতে পারেনঃ

নিজের ভুল ধরতে পারার ক্ষমতা সকলের থাকে না। মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি আত্মপক্ষ সমর্থন করা। অনেক সময় ভুল করার পরও তাকেই সমর্থন করুন।

ফ্রিল্যান্সার সবসময়ই অন্যের কাজ করেন। তার সবসময়ই মনে রাখা প্রয়োজন যার কাজ তিনি যেভাবে চান সেভাবে করে দেয়া তার দায়িত্ব। সবসময় ক্লায়েন্ট ঠিককথা বলবেন এমন কথা নেই, তারপরও

পেশাগত কারনে তিনি যে কোন বিচ্যুতি স্বীকার করে নেবেন এবং নিজেকে সংশোধন করবেন।

৬. ফ্রিল্যান্সিং এর বাইরে কাজ অবহেলা না করাঃ

ফ্রিল্যান্সিং জীবনের সবকিছু না। এর বাইরে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক জীবন রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং এর কারনে এদেরকে অবহেলা করে ফ্রিল্যান্সিং এ সফল হওয়া যায় না। একসময় এগুলো ফ্রিল্যান্সিং কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে। ফ্রিল্যান্সারের সফলতা পরিমাপ করবেন কিভাবে? কখন বলবেন কেউ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সফল, কিংবা ব্যর্থ?

সফলতা-ব্যর্থতার হিসেব একেকজনের কাছে একেক রকম। কেউ ধনম্পদে খুশি। অবৈধ উপায়ে আয় করার পর যখন সমাজের সবাই নিন্দে করে তখনও তৃপ্তি অনুভব করে সম্পদের কথা ভেবে। এদের নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

কেউ খুশি নিজের আত্মসন্মানে। অর্থকষ্টে থেকেও তারা খুশি কারন অন্যরা তাদের সম্মান করে। এধরনের মানুষ যুগ যুগ ধরে উদাহরন হিসেবে বেচে থাকেন।

এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সংখ্যা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। নিজের সন্মান রক্ষা করেও যারা ভালোভাবে বাঁচতে চান। যথেষ্ট পরিমান অর্থ চান, তবে সেটা নিজে পরিশ্রম করে আয়ের মাধ্যমে।

ফ্রিল্যান্সারের কোটিপতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই, একেবারে ব্যতিক্রম ছাড়া। উইনএম্প নামে এমপিথ্রি গান শোনার সফটওয়্যার যিনি প্রথম তৈরী করুন তিনি পেয়েছিলেন ১ কোটি ডলার। এ ধরনের নতুন কিছু করে কোটিপতি হওয়া সম্ভব। কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং ব্যবহার করে, অনেকের আয়ের ব্যবস্থা করেও বিপুল পরিমান অর্থ আয় করা সম্ভব।

সবার পক্ষে সেটা বাস্তবসম্মত না। কাজেই ফ্রিল্যান্সারের সফলতা মাঝামাঝি হিসেব করাই ভালো। সুনামের সাথে কাজ করে নিজের সমস্ত প্রয়োজন মেটানোকেই সফলতা হিসেবে ধরে নিন। যখন গর্ব করে অন্যকে বলতে পারবেন, আমি সন্মানজনক কাজ করি, নিজের পরিশ্রম করা আয়ে চলি।

কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ফ্রিল্যান্সার হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ না।

আশা করি আমার ব্লগটি থেকে অনেক কিছু বুঝতে পেরেছেন। ব্লগটি শেয়ার করার মতো হলে শেয়ার করুন। এরকম আরও হেল্পফুল ব্লগ পড়ার জন্য আমাদের গ্রাফিক স্কুলের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ব্লগটি পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

 

 

sf sf

Author

sf sf

Leave a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।