ওয়েব ডিজাইন কীভাবে? গাইডলাইন ফ্রিল্যান্সিং কী?

তৃতীয় পর্বঃ- সহজেই শিখুন ব্যাসিক জাভাস্ক্রিপ্ট

Things To Learn For Basic Web Design Part 3

১২০ দিনের ব্যাসিক ওয়েব ডিজাইন শেখার ফ্রি চ্যালেঞ্জের সিরিজ আর্টিকেলের তৃতীয় এবং শেষ পর্বে আপনার সাথে আলোচনা করতে যাচ্ছি ওয়েব ডিজাইনের জন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় “জে এস” বা “জাভাস্ক্রিপ্ট” নিয়ে।

আজ আলোচনা করব জাভাস্ক্রিপ্ট কি? কেন? কি কি শিখব? সহজে কিভাবে শিখব ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে। প্রশ্নগুলোর গঠনমূলক উত্তর সহ বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। চলুন শুরু করি

পূর্বেকার মতো এবারেও শুরুতেই বলে নিচ্ছি এই পোষ্টে কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রোমোট করা হবে না বা এটা কোন ব্যাবসায়িক চিন্তা ধারার পোষ্ট নয়।
খুব সময় নিয়ে পোষ্ট টি পড়বেন বা পরে পড়তে চাইলে পোষ্টটি আমার প্রোফেইলে গিয়েই পড়ে নিতে পারবেন। এটা প্রায় আড়াই হাজার শব্দের মোটামুটি এক বিশাল পোষ্ট। তাই একটু সময় নিতেই হবে মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য। দেরী না করে এবার মূল কথায় আসি।
জাভাস্ক্রিপ্ট শেখার শুরু করার আগে আমাদের এর সম্পর্কে সাধারণ কিছু ধারণা নিতে হবে। জাভাস্ক্রিপ্ট হল একটি ক্লায়েন্ট সাইড স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ। ক্লায়েন্ট সাইড স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ এর অর্থ হলো, ব্রাউজার এই স্ক্রিপ্টগুলোকে রান কিংবা এক্সিকিউট করবে।
ক্লায়েন্ট সাইড এর বিপরীত হল সার্ভার সাইড। সার্ভার সাইড ল্যাংগুয়েজ গুলোর কোড ওয়েব সার্ভার এর মাধ্যমে রান কিংবা এক্সিকিউট হয়। জাভা এবং জাভাস্ক্রিপ্ট সম্পূর্ন আলাদা ল্যাংগুয়েজ। জাভা হচ্ছে পূর্নাঙ্গ একটা অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ আর জাভাস্ক্রিপ্ট হচ্ছে স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ।
জেনে রাখা ভালো যে, ১৯৯৫ সালে ব্রেন্ডন এইচ নামক এক আমেরিকান সফটওয়্যার টেকনোলজিস্টএই জাভাস্ক্রিপ্ট ভাষা উদ্ভাবন করেন। জাভাস্ক্রিপ্ট এর সাহায্যে একটি এইচটিএমএল পেজে নানান ধরনের ইফেক্ট বা আকর্ষণীয় জিনিস তৈরী করা যায় এছাড়া ফর্ম ভেলিডেশন এবং এজাক্সের কাজ করে একটা ওয়েবসাইটকে ইন্টারএক্টিভ করা যায়। এটা শেখাটা কিন্তু একটু কঠিন।
জাভাস্ক্রিপ্ট শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই এইচটিএমএল সম্পর্কে খুব ভালো জ্ঞান রাখতে হবে।
জাভাস্ক্রিপ্ট মুলত ৩টি জিনিস নিয়ে তৈরীঃ
১. ECMAScript (এটা হচ্ছে জাভাস্ক্রিপ্ট এর মুল অংশ বা core functionality) .
২. DOM (Document Object Model – ওয়েব পেজের কনটেন্টের সাথে কাজ করে).
৩. BOM (Browser Object Model – ব্রাউজারের সাথে কাজ করে).
যাইহোক, শুরতেই এবং গত দুই পর্বে বলেছিলাম যে, আমরা এইচটিএমএল এবং সিএসএস শেখার জন্য মোট ২২-২৫ দিন ব্যয় করব। তবে জাভাস্ক্রিপ্ট শেখাটা যেহেতু একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার এবং আমরা শুধুমাত্র ব্যাসিক আয়ত্তে আনতে যাচ্ছি, সেহেতু আমরা পরবর্তী প্রায় দেড় মাস সময় নিয়ে ব্যাসিক জাভাস্ক্রিপ্ট শিখব।
ব্যাসিক জাভাস্ক্রিপ্ট শেখার জন্যে প্রথমেই গুগল এবং ইউটিউব থেকে এর সম্পর্কে একটু আধটু জেনে নিতে হবে। ব্যাসিক শেখার জন্য দশ থেকে পনেরো দিনই যথেষ্ট। একদম ফ্রিতেই সব কিছু গুগল এবং ইউটিউবে পেয়ে যাবেন এবং ব্যাসিক অবস্থাতেই ইংরেজি ভাষার কোনো আর্টিকেল পড়বেন না বা ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখতে যাবেন না, ব্যাসিক অবস্থায় সব বাংলা টিউটোরিয়াল গুলো দেখবেন। গুগলে সার্চ করতে পারেন,
  • JavaScript কি?
  • JavaScript মানে কি?
  • JavaScript কত প্রকার?
  • কেন JavaScript ব্যবহার করবেন?
  • JavaScript দিয়ে কি কি করা যায়?
  • জাভাস্ক্রিপ্ট কেনো প্রয়োজন?
  • জাভাস্ক্রিপ্ট কিভাবে শিখব?
এই বিষয়ে অগণিত উত্তর পেয়ে যাবেন। ইউটিউব থেকে জাভাস্ক্রিপ্ট শেখার জন্য সার্চ করতে পারেন,
এলোমেলো ভিডিওতে ঘোরাঘুরি না করে প্লে লিস্ট খুঁজে নিয়ে সেখান থেকে শিখুন। তাহলে দ্রুত শেখা হবে এবং সময় বেঁচে যাবে। সার্চ রেজাল্টে শুধু প্লে লিস্ট দেখার জন্য কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করার পরে FILTER এ ক্লিক করে TYPE এর কলাম থেকে Playlist সিলেক্ট করলেই হয়ে যাবে। ভিডিও দেখে শেখার আগে নিচে লেখা গাইডলাইন মনোযোগ সহকারে পড়ে নিন। শেখার ক্ষেত্রে চাইলে এই গাইডলাইন অনুসরণ করতে পারেন।
ওয়েবসাইটকে আরো ইন্টারএক্টিভ এবং কার্যক্ষম করে তুলতে অবশ্যই আমাদেরকে জাভাস্ক্রিপ্ট শিখতে হবে। তাই আমরা এখন হতে আগামী প্রায় দেড় মাস সময় নিয়ে শুধুই ব্যাসিক জাভাস্ক্রিপ্ট শিখব।

টাইমলাইন অনুসরণ করে যেভাবে শুরু করতে পারি ব্যাসিক সি এস এস শেখাঃ-

(শুরুতেই একটি নোট দিচ্ছি, নিচের টাইমলাইনের বিষয় বস্তু গুলো শুরু অবস্থাতেই একদম এডভান্স ভাবে না শিখলেও চলবে। কাজ করতে করতে আপনি এমনিতেই এডভান্স লেভেলের কাজ শিখে যাবেন।)

  • ১ম দিনঃ- জাভাস্ক্রিপ্ট শেখার প্রথম দিনটি আপনি শুরু করতে পারেন জাভাস্ক্রিপ্ট কি? কেন? কখন? কিভাবে ইত্যাদি ব্যাসিক বাংলা প্রশ্নের উত্তর জানার মাধ্যমে। এরপরে জেনে নেবেন জাভাস্ক্রিপ্ট কোথায় এবং কিভাবে ব্যাবহার করা হয়?
  • ২য় দিনঃ- এই দিনটি শুরু করুন ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট শেখার ক্ষেত্রে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস, ব্রাউজারের ডেভেলপার কনসোল কি এবং কিভাবে তা ব্যবহার হয় তা জানার মাধ্যমে। এটা শেখা খুবই জরুরী, তাই দ্রুত শিখে রাখুন।
  • ৩য় দিনঃ- এই দিনে একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন এর ক্ষেত্রে জাভাস্ক্রিপ্ট কে কিভাবে ব্যবহার করা যায় এবং কোথায় এর ফাইল গুলো রেখে এইচটিএমএল ডকুমেন্টে লিংক করতে হয় সেটা শিখুন। আরো শিখবেন কিভাবে একটি জাভাস্ক্রিপ্ট কোড ওয়েবসাইটে কাজ করে থাকে, আউটপুট কি? স্টেটমেন্ট কি? সিনট্যাক্স কি? ইত্যাদি শিখুন।
  • ৪র্থ দিনঃ- এই দিন একটু সময় নিয়ে জেনে নেবেন কিভাবে জাভাস্ক্রিপ্ট প্রোগ্রামে কমেন্ট লিখতে হয়, জাভাস্ক্রিপ্টে অপারেটর এর ব্যবহার কি, এরিথমেটিক অপারেটর কাকে বলে এবং কিভাবে কাজ করে, এসাইনমেন্ট অপারেটর কাকে বলে এবং কিভাবে কাজ করে ইত্যাদি যত্নের সাথে শিখুন।
  • ৫ম দিনঃ- আজকের দিনটিতে পুর্বের দিন গুলোতে শেখা সব গুলো নতুন বিষয় গুলো নিয়ে পর্যালোচনা এবং প্র্যাক্টিস করুন। টানা কোডিং শিখতে থাকলে এবং করতে থাকলে নতুন অবস্থায় শেখার প্রতি অলসতা আসতে পারে। এজন্যই মূলত এই দিনটিকে পুর্বের বিষয় গুলোকে নতুন করে রিভিশন দেয়া এবং প্র্যাক্টিস করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন।
  • ৬ষ্ঠ দিনঃ- একটি দিনের বিরতির পরে এই দিনে জাভাস্ক্রিপ্টে ব্যবহৃত ভেরিয়েবল এবং ডেটা টাইপ নিয়ে শেখার শুরু করুন। শুধু শিখেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না, তাই টুকটাক কোডিং করতে ভুলবেন না কিন্তু।
  • ৭ম দিনঃ- এই দিনটি আপনার জন্য শুভ হোক। এই দিনে বেশি কিছু জানার দরকার নেই, শুধুমাত্র কন্ডিশনাল স্টেটমেন্ট নিয়ে গভির ভাবে জানার চেষ্টা করুন এবং তৎক্ষণাৎ কোডিং করে প্রতিটি সুক্ষ বিষয় বোঝার চেষ্টা করবেন।
  • ৮ম দিনঃ- এই দিনে মজার একটি বিষয় শেখার চেষ্টা করুন, তবে শেখার পাশাপাশি প্র্যাক্টিস করতে কিন্তু ভুলবেন না। এই দিনটিতে আপনি লুপ কি এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন।
  • ৯ম দিনঃ- এই দিনে আপনি অ্যারে নিয়ে সবকিছু জানার চেষ্টা করবেন। কেননা জাভাস্ক্রিপ্ট শেখার ক্ষেত্রে লুপ, অ্যারে ইত্যাদি বিষয় গুলো আপনাকে জোর দিয়ে শিখতে হবে।
  • ১০ম দিনঃ- দশম দিনটি আপনি শুরু করুন অবজেক্ট এর ব্যাসিক ধারণা গ্রহণ করা দিয়ে। জাভাস্ক্রিপ্ট এর ক্ষেত্রে অবজেক্ট কি? কেন? কিভাবে ইত্যাদি প্রশ্ন গুলো গুগল বা ইউটিউবে সার্চ করে করে খুঁজে জানার এবং প্র্যাক্টিস করার চেষ্টা করুন।
  • ১১ম দিনঃ- ফাংশন কি? কেনো? কিভাবে ? ইত্যাদি জানার মাধ্যমে এই দিনটি শুরু করতে পারেন। ফাংশন একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জাভাস্ক্রিপ্ট এর ক্ষেত্রে। আমাদেরকে ধীরে ধীরে এগোতে হবে সব গুলো বিষয় নিয়ে।
  • ১২ম দিনঃ- কেনো এবং কিভাবে জাভাস্ক্রিপ্টে স্টেটমেন্ট এবং এক্সপ্রেশন ব্যবহার করা হয় তা এই দিনে প্র্যাক্টিক্যাল ভাবে জানুন।
  • ১৩ম দিনঃ- আপনি হয়ত এতদিনে জেনে গিয়েছেন যে, প্রোগ্রামিং এ অনেকগুলো প্রিন্সিপ্যাল আছে। তার মধ্যে পরিচিত একটি হচ্ছে ড্রাই প্রিন্সিপ্যাল। কিভাবে ড্রাই প্রিন্সিপ্যাল মেনে ভালোভাবে কোড লেখা যায় সেটাই শিখে নেবেন এই দিনটিতে।
  • ১৪ম দিনঃ- এই দিনটিতে আপনি জাভাস্ক্রিপ্টের হোইস্টিং(Hoisting) নিয়ে ধারণা অর্জন করবেন। যদিও এটা জাভাস্ক্রিপ্টের ডিফল্ট বিহেভিয়ার। জাভাস্ক্রিপ্ট যাবতীয় ডিক্লেয়ারেশনগুলোকে সবসময় সবকিছুর আগে নিয়ে যায়। এটাই মূলত হোইস্টিং। এর ব্যাপারে বিস্তারিত জানার সর্বোত্তম দিনটি কিন্তু আজই ।
  • ১৫ম দিনঃ- এই দিনটি শুরু করুন স্কোপ(Scope) নিয়ে ধারণা অর্জন করার মাধ্যমে। আপনাকে জানতে হবে আপনার ডিক্লেয়ারকৃত ভ্যারিয়েবল/ফাংশন আপনি কোথায় কোথায় অ্যাক্সেস করতে পারবেন বা কোথায় কোথায় ইউজ করতে পারবেন। কোনো ভ্যারিয়েবল বা ফাংশন প্রাইভেট করতে চাইলে বা কোনো ভ্যারিয়েবলকে সব জায়গা থেকে অ্যাক্সেস করতে চাইলে কিভাবে বা কোথায় সেটাকে ডিক্লেয়ার করতে হবে এসবকিছুই স্কোপিং এর অন্তর্ভুক্ত। জাভাস্ক্রিপ্টে কত ধরণের স্কোপ হতে পারে সেটারও কিন্তু ধারণা রাখবেন।
  • ১৬ম দিনঃ- জাভাস্ক্রিপ্টে কেন ক্লোজারস(Closures) এর ব্যবহার করা হয় জানার বা এটা শেখার মাধ্যমে এই দিনটি অতিবাহিত করতে পারেন।
  • ১৭ম দিনঃ- জাভাস্ক্রিপ্টে ‘this’ কীওয়ার্ড ও এর ব্যবহার সম্পর্কে ব্যাবহারিক ভাবে জানার মাধ্যমে এই দিনটি অতিবাহিত করতে পারেন। কেননা, জাভাস্ক্রিপ্ট এ সবচেয়ে ট্রিকি এবং কনফিউজিং একটা টপিক বা ওয়ার্ড হচ্ছে this কীওয়ার্ড।
  • ১৮ম দিনঃ- এই দিনে call(), bind() এবং apply() মেথড তিনটি সম্পর্কে বেসিক জানার চেষ্টা করুন।
  • ১৯ম দিনঃ- জাভাস্ক্রিপ্ট আসলে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ (Object Oriented Programming Language)। যদিও অন্যান্য OOP(Object Oriented Programming) ল্যাংগুয়েজগুলো থেকে জাভাস্ক্রিপ্ট এ অনেক কিছু একটু অন্যরকম, কিন্তু তারপরেও এটা অবজেক্ট ওরিয়েন্টেটেড ল্যাংগুয়েজের মধ্যেই পড়ে। নতুন ভার্শনগুলোয় সেগুলো আপডেটও করা হচ্ছে আস্তে আস্তে। আর তাই আজকের এই দিনে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড জাভাস্ক্রিপ্ট নিয়ে গভীর ভাবে স্টাডি করতে হবে।
  • ২০ম দিনঃ- এই দিনটিতে বিরতি দিয়ে শুধুমাত্র পূর্বের দিনগুলোতে শেখা বিষয় গুলো নিয়ে আবার পর্যালোচনা করতে পারেন। অথবা চাইলে রিফ্রেশমেন্টের জন্য একটু বাহির থেকে ঘুরে আসুন অথবা পরিবারকে সময় দিন। অন্তত একটি দিন কোডিং, কম্পিউটার, ইন্টারনেট থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। প্রকৃতিকে উপভোগ করুন।
  • ২১ম দিনঃ- এক দিনের এই বিরতির পরে আবার কাজ শেখায় ফিরে এসে একুশতম দিনটিতে আপনি জাভাস্ক্রিপ্টের ফাংশন কন্সট্রাকটর(Constructor) এবং ‘new’ কীওয়ার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান আহরণ করতে পারেন।
  • ২২ম দিনঃ- জাভাস্ক্রিপ্ট এর ক্ষেত্রে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং এ ইনহেরিট্যান্স খুবই গুরুত্বপুর্ণ এবং কাজের একটা জিনিস। তাই, বাইশতম দিনে আপনি ইনহেরিট্যান্স (Inheritance) সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখবেন যেনো পরবর্তিতে এটা নিয়ে কাজ করতে পারেন।
  • ২৩ম দিনঃ- এই দিনটি তে আপনি স্ট্রিক্ট (Strict) মোড সম্পর্কে স্টাডি করবেন এবং বিষয়টি আরো গভীর ভাবে বুঝতে আপনি বিষয়টি নিয়ে প্র্যাক্টিক্যাল ভাবে কাজ করবেন। জাভাস্ক্রিপ্ট এ নতুন একটা জিনিসের সাথে ডেভেলপারদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় স্ট্রিক্ট মোড (Strict Mode)নামে।
  • ২৪ম দিনঃ- এই দিনটিতে একটু এডভান্স টাইপের কিছু জিনিশ আপনি শিখবেন। এই দিনে আপনি জাভাস্ক্রিপ্ট এর ভার্শন গুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতে পারেন এবং প্রতিটি ভার্শনের চেইঞ্জ লগ গুলো আপনি একটু অনলাইনে স্টাডি করার মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন। জাভাস্ক্রিপ্ট বা ইকমাস্ক্রিপ্ট এর ভার্শন গুলো সম্পর্কে ধারণা রাখা উচিৎ, না জানলেও ক্ষতি নেই।
  • ২৫ম দিনঃ- এই দিনে জাভাস্ক্রিপ্টের নতুন ভার্শন ES6 ভার্শনের let এবং const দিয়ে ভ্যারিয়েবল ডিক্লেয়ার করা শিখবেন। এখনি একদম এডভান্স লেভলের কাজ শিখতে যাবেন না। আগে ব্যাসিক ক্লিয়ার করুন।
  • ২৬ম দিনঃ- আপনি যদি জাভাস্ক্রিপ্টের ভার্শন গুলো সম্পর্কে ভালভাবে জেনে থাকেন তাহলে আপনি ES5 ভার্শনের ইফি (Immediately Invoked Function Expressions) সম্পর্কেও জেনে থাকবেন। ব্যাসিক জাভাস্ক্রিপ্ট শেখার ছাব্বিশতম দিনে আপনি শিখবেন ইফি কি? ইফি কিভাবে এবং কেনো ইউজ করা হয়? ইত্যাদি।
  • ২৭ম দিনঃ- সাতাশতম দিনটি আপনি শুরু করতে পারেন টেমপ্লেট লিটারেল(Template Literal) ও স্ট্রিং মেথড সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার মাধ্যমে।
  • ২৮ম দিনঃ- জাভাস্ক্রিপ্ট এর ইএস৬ এ নতুন আরেক সংযোজন হচ্ছে অ্যারো ফাংশন। অনেকের কাছে ফ্যাট অ্যারো(Fat Arrow) ফাংশন বলেও পরিচিত। এটা আসলে নতুন কিছু নয়, জাস্ট সিন্ট্যাক্টিক্যালি দেখতে সুন্দর এবং অনেকটা ক্লিন। তাই, আটাশতম দিনটি আপনি অ্যারো (Arrow) ফাংশন ও লেক্সিক্যাল(Lexical) ‘this’ কীওয়ার্ড সম্পর্কে জানার মাধ্যমে এবং বোঝার মাধ্যমে অতিবাহিত করার চেষ্টা করুন। এগুলোর ব্যাসিক জানলেই চলবে।
  • ২৯ম দিনঃ- জাভাস্ক্রিপ্ট ইএস ৬(ES6) ভার্শনে ডি-স্ট্রাকচারিং (Destructuring) বলে একটি বিষয় রয়েছে। এটি কি? কেন? এবং কিভাবে ব্যবহৃত হয় ইত্যাদি ব্যাসিক জেনে নিতে পারলে পরবর্তিতে ওয়েব ডিজাইন বা ডেভেলপমেন্ট এর ক্ষেত্রে অনেক কাজে দেবে।
  • ৩০ম দিনঃ- ত্রিশতম দিনটিতে আপনি পূর্বের দিনগুলোর বিষয়বস্তু সমূহ পর্যালোচনা করবেন এবং এভারেজ কি কি শিখলেন, কতটুকু শিখলেন সেটা একটু যাচাই করে নেবেন।
  • ৩১ম দিনঃ- আমরা ব্যাসিক জাভাস্ক্রিপ্ট শেখার প্রায় শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। এই দিনে একটু জাভাস্ক্রিপ্টের একটা স্মার্ট বিষয় শিখতে পারেন। আর সেটি হচ্ছে, স্প্রেড(Spread) অপারেটর। কেনো এটাকে স্মার্ট বলে আখ্যায়িত করেছি সেটা তখনই বুঝে যাবেন যখন আপনি এটা নিয়ে কাজ করবেন। তো, আর দেরী কিসের?
  • ৩২ম দিনঃ- এই দিনে আপনি রেস্ট প্যারামিটার এর ব্যবহার বা এর সম্পর্কে জানতে পারেন। জাভাস্ক্রিপ্ট এর ইএস৬ এ রেস্ট প্যারামিটার আরেকটা ইউজফুল অ্যাডিশন। এর সাহায্যে আন্ডিফাইন্ড অ্যামাউন্ট প্যারামিটার পাস করা যায় একটা ফাংশনের ভিতর দিয়ে। বিস্তারিত এটি নিয়ে একটু স্টাডি করলেই জানতে পারবেন।
  • ৩৩ম দিনঃ- তেত্রিশতম দিনে আপনি জাভাস্ক্রিপ্টের ডিফল্ট(Default) প্যারামিটার সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে পারেন। এটা কিন্তু খুব কাজের এবং আপনার কোডিং জিবনকে খুব সহজ করে দেবে। আমি বারবার বলছি, এদের সম্পর্কে ব্যাসিক ধারণা রাখলেই চলবে, বেশী গভীরে যাওয়ার দরকার নেই।
  • ৩৪ম দিনঃ- এই দিনটি আপনার ব্যাসিক কিছু শেখার শেষ দিন। এরপরের দিন গুলোতে আমরা শুধু প্র্যাক্টিক্যাল কিছু কাজ করব। তবে এই দিনে আপনি জাভাস্ক্রিপ্টের ফ্রেমওয়ার্ক গুলো সম্পর্কে বিস্তর ধারণা রাখবেন যেনো পরে এগুলো নিয়ে কাজ করতে গেলে এসব কি? কেনো? প্রশ্ন মাথায় না আসে। ফ্রেমওয়ার্ক কি? সেটা যদি না জানেন তাহলে সহজেই গুগল বা ইউটিউব করে জেনে নেবেন।
  • ৩৫ম দিনঃ- আপনি বিগত ৩৪ দিনের ইন্সট্রাকশন গুলো ফলো করে থাকেন এবং প্র্যাক্টিক্যালি সেগুলো করে থাকেন এবং জাভাস্ক্রিপ্ট এ আপনার বেশ ভালো একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি হয়, তাহলে আপনি আজ থেকে পরবর্তি পাঁচ দিন শুধুমাত্র এইচটিএমএল, সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে মোট ৫ টি অতি সাধারণ প্রজেক্ট তৈরি করবেন। এই দিনে আপনি জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে খুব সিম্পল একটি ক্যালকুলেটর তৈরি করে ফেলবেন যেটা দিয়ে যেকোনো সংখ্যাকে (হোক সেটা ফ্লোটিং কিংবা ইন্টিজার নাম্বার) যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ করা যাবে। যদি তৈরি করতে সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই গুগল, ইউটিউব থেকে সহায়তা নেবেন। আশা করি আপনি পারবেন।
  • ৩৬ম দিনঃ- এই দিনে আপনি এমন একটি ওয়েবপেইজ তৈরি করবেন, যেখানে সম্পুর্ন পেইজের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকবে কালো রঙের এবং পুরো পেইজের একদম সেন্টারে সাদা রঙের টেক্সটে টাইম প্রদর্শিত হবে। অর্থাৎ, আপনি এবার জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে একটি ডাইনামিক ঘড়ি তৈরি করতে যাচ্ছেন।
  • ৩৭ম দিনঃ- আজ আপনি এমন একটা ছোটো প্রজেক্ট করবেন যেটা মূলত আপনার ওয়েব ডিজাইন ক্যারিয়ারে প্রায়ই করতে হবে। আজকে আপনি একটু সুন্দর এবং এনিমেটেড Animated Navigation Toggle & Menu তৈরি করবেন। নিজে নিজে করতে না পারলে অবশ্যই গুগল, ইউটিউব থেকে সহায়তা নেবেন।
  • ৩৮ম দিনঃ- এই দিনটিতে আপনি জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে একটি খুব সাধারণ কুইজ গেম তৈরি করবেন। এটা অনেক মজার এবং বেশ ইন্টারেস্টিং একটি প্রজেক্ট। আশা করি আপনি সফল হবেন।
  • ৩৯ম দিনঃ- এই দিনে একটি খুব ছোট ওয়েব এপ্লিকেশন তৈরি করবেন যেটা দিয়ে আপনি দৈনিক কাজের লিস্ট কিংবা কোনো কাজ করতে হবে, সেসবের লিষ্ট রাখা যাবে এবং সেখানে ইচ্ছেমত লিস্ট অ্যাড করা যাবে, ডিলিট করা যাবে এমনকি ইউজার চাইলে প্রতিটি লিস্টের আইটেমের নিচে কমেন্টও করতে পারবে। এক কথায়, আপনি এই দিনে জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে একটি TO-DO LIST ওয়েব এপ্লিকেশন তৈরি করবেন। এটা আসলেই সিম্পল একটি প্রজেক্ট, তবে মাথা খাটিয়ে বুঝে বুঝে করবেন। না পারলে গুগল আর ইউটিউব তো আছেই।
  • ৪০ম দিনঃ- এই দিনই হতে যাচ্ছে ব্যাসিক জাভাস্ক্রিপ্ট শেখার শেষ দিন। এই দিনে আপনি একটি ওয়েবপেইজ ডিজাইন করবেন যেখানে শুরুতেই একটি এনিমেটেড ন্যাভিগেশন টোগল মেনুবার থাকবে, এর পরের সেকশনে আপনার নিজের ছবি, পরিচয় আর এর পরের সেকশনে আপনার গত দিন গুলোতে সম্পন্ন করা প্রজেক্ট গুলোর লিংক থাকবে। এর পরের সেকশনে থাকবে একটি কন্ডিশনাল কন্টাক্ট ফর্ম। এরপরের সেকশনে জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়েই আপনার তৈরি ছোট্ট একটা অনলাইন ইন্সট্যান্ট গেম রাখতে পারেন (যেমন, Flappy Bird). এতদিন জাভাস্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করলে আপনি খুব সহজেই এমন সাধারণ একটি ওয়েব গেম তৈরি করে ফেলতে পারবেন। এর পরের সেকশনটা রাখতে পারেন ফুটার সেকশন। আপনি চাইলে ফুটারের আগে আরো কিছু ক্রিয়েটিভ সেকশন রাখতে পারেন। এভাবেই মূলত আপনার ব্যাসিক জাভাস্ক্রিপ্ট শেখার সমাপ্তি ঘটবে। ব্যাসিকটা শিখে যেতে পারলেই অ্যাডভান্স কাজ শেখার ওপর আপনার আগ্রহ বেড়ে যাবে। তখন আপনি নিজেই নিজেকে ট্রেইন করে শিখতে পারবেন অনেক কিছু। আপনার জন্য শুভ কামনা।
আপনার সফলতা এবং সুস্বাস্থ্যতা কামনা করছি, হ্যাপি কোডিং।
ধন্যবাদ
Al Nahian

Author

Al Nahian

Leave a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।